গোপনে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিয়ে করে স্ত্রীকে স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় কোনো উপায় না দেখে আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল থেকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে দিনভর অবস্থান নিয়েছেন ভুক্তভোগী এক তরুণী। এদিকে, স্ত্রীর আসার খবরে কলেজ থেকে লাপাত্তা রয়েছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মো. পারভেজ। তিনি ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
জানা যায়, অভিযুক্ত পারভেজ ঢাকা কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং ক্যাম্পাসের ফরহাদ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র। তাঁর গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জনগাও গ্রামে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ওই হলের সামনেই ভুক্তভোগী তরুণীকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী ওই তরুণীর দাবি, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে রাজধানী ঢাকার ঘাটারচরে একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন একসাথে থাকতেন তাঁরা। একপর্যায়ে বিভিন্ন শর্তের বেড়াজালে চলতি বছরের মার্চ মাসে তাঁরা কোর্ট ম্যারেজ (বিয়ে) করেন। তবে বর্তমানে পারভেজ বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন এবং তাঁর সাথে সব ধরণের যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন।
তরুণী জানান, তিনি দুই দিন আগে ঠাকুরগাঁও থেকে স্বামী পারভেজের খোঁজে ঢাকায় এসেছেন। ঢাকায় পরিচিত কেউ না থাকায় রাতে একটি হাসপাতালের বারান্দায় বসে রাত কাটিয়েছেন। এরপর সকালে অনেক কষ্টে ঢাকা কলেজে স্বামীর সন্ধান পেয়ে ছুটে আসেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছে। কিন্তু এখন সে বিষয়টি অস্বীকার করছে। পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রথমে সে ফোনে জানায় ঢাকার বাইরে আছে। একেক সময় একেক জায়গায় যেমন— সিলেট বা সুনামগঞ্জে আছে বলে বাহানা ধরে। সর্বশেষ আমার সাথে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে মোবাইল নম্বর ব্লক করে দিয়েছে।”
এদিকে ক্যাম্পাসে এক তরুণীর অবস্থানের বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীকে বুঝিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই নারী ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে, তরুণীর অভিযোগের বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মো. পারভেজের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।







