বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মদ ও সিগারেটের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলো স্লোগান দিয়েছে। তবে বিভিন্ন ভিডিও, সংবাদ প্রতিবেদন ও ফ্যাক্ট-চেক বিশ্লেষণে এ দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ঝিনাইদহে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে বাজেটবিরোধী মিছিলে ‘গরিব মারার বাজেট’ ধরনের স্লোগান শোনা গেলেও এবার মদ ও সিগারেটের দাম বৃদ্ধির বিরোধিতায় স্লোগান দেওয়া হয়েছে।
তবে পরবর্তীতে প্রকাশিত ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাজেটের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিওতে ‘গণবিরোধী বাজেট’, ‘গরিব মারার বাজেট’, ‘লুটপাটের বাজেট’ ও ‘বৈষম্যের বাজেট’সহ বিভিন্ন স্লোগান শোনা গেলেও মদ বা সিগারেটের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কোনো স্লোগান পাওয়া যায়নি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীও বিরোধী দলগুলোকে উদ্দেশ করে মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধির প্রতিবাদ করার অভিযোগ তুলেছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বক্তব্য, দলীয় বিবৃতি এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে বিরোধী দলগুলো বাজেটে মদ, সিগারেট বা তামাকজাত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কালের কণ্ঠের আদলে তৈরি একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল জামায়াত মদ, সিগারেট, গাঁজা ও তামাকজাত দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে। পরে বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেক সংস্থা ওই ফটোকার্ডকে ভুয়া বলে শনাক্ত করে।
জামায়াতে ইসলামী বাজেটকে ‘অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক’ বলে সমালোচনা করলেও মদ বা সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাজেটে মদ ও সিগারেটের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে স্লোগান দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি তথ্যপ্রমাণে সমর্থিত নয় বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।







