কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে দেশজুড়ে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, পুলিশের সতর্কবার্তাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কর্মসূচি সফল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সারা দেশের পুলিশ ইউনিটে একটি জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। ডিআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) মো. কামরুল আহসানের সই করা ওই নির্দেশনায় জেলা পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের কর্মসূচি প্রতিহত করতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিতে পারেন। এতে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম যাতে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না ওঠে, সে জন্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য নাশকতা ও সহিংসতা ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার থেকে রাজধানীর প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা এবং প্রবেশপথগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশি সতর্কতার মধ্যেই কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পলাতক কয়েকজন নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার নেতারা অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
সূত্র জানায়, কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুবিধার্থে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা কয়েকজন নেতার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে মিছিলকে প্রধান কর্মসূচি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে বিশেষ কৌশলও গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মিছিল আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে। কেরানীগঞ্জ ও কামরাঙ্গীরচরে দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন আহমেদ। মিরপুর, রূপনগর, পল্লবী, মোহাম্মদপুর, আদাবর ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায়ও আলাদা নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে কুমিল্লা, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলাতেও কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় নেতারা পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ এবং মিছিল আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাপক জনসমাগমের কর্মসূচি পালন করা হবে।
তবে পুলিশ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যতটা শক্তি ও উপস্থিতির বার্তা দেওয়া হচ্ছে, বাস্তবে আওয়ামী লীগ তত বড় কর্মসূচি দেখাতে পারবে না। তবুও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
২৩ জুনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা এবং দলীয় কর্মসূচির প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন সময়ই বলে দেবে।







