মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা একটি হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) আসামি ও স্থানীয় জামায়াত নেতা খিজির আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বড়লেখা বাজারের আলভীন রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ড দেওয়ার পর এর প্রতিবাদে বড়লেখায় জামায়াতে ইসলামী ও তৌহিদী জনতার মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতারা হামলা চালায়। ওই সময় পুলিশের গুলিতে জামায়াত কর্মী লোকমান আহমদ নিহত হন। পরবর্তীতে পুলিশ বাদী হয়ে উল্টো জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৬৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত অনেকের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ১৩ বছর আগের সেই রাজনৈতিক মামলার ওয়ারেন্ট জারি থাকায় খিজির আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত খিজির আহমদের ছোট ভাই তারেক আহমদ জানান, তার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে কাতারে অবস্থান করছেন এবং সেখানে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি দেশে নিয়মিত আসা-যাওয়া করছেন। ২০১৩ সালের একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা মামলার ওয়ারেন্ট দেখিয়ে তার ভাইকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা শাখার সাবেক আমির ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা খিজির আহমেদ একজন জননন্দিত জামায়াত নেতা। এর আগে তিনি পৌর মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার তার বিজয় ছিনতাই করেছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে যেখানে আগের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হচ্ছে, সেখানে পুলিশ প্রশাসন অতি-উৎসাহী হয়ে ১৩ বছর আগের মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
খিজির আহমদের মতো একজন জনপ্রিয় নেতাকে বাজার থেকে এভাবে গ্রেপ্তার করায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, খিজির আহমদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের একটি হত্যা মামলায় (জিআর ৬২/২০১৩, মামলা নং ২৭) আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।







