জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা মাদক, আইনশৃঙ্খলা, সীমান্ত নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সংকট, প্রবাসী হয়রানি এবং সংস্কার প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার সংসদ অধিবেশনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন দেশের মাদক পরিস্থিতিকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, এটি কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আরোপিত ‘মাদক যুদ্ধ’ কিনা। তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের মাধ্যমে বিপথে ঠেলে দিয়ে দেশের বাজার দখলের অপচেষ্টা চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষিত মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান এখনো শুরু না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
একই আলোচনায় এনসিপির সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জনগণ রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করলেও দুই বছর পরও তাদের প্রভাব ও সন্ত্রাস পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, “স্বৈরাচারের বিষদাঁত এখনো ভাঙা হয়নি। তারা এখনো জোর গলায় হুমকি দেয় এবং অতীতের হত্যাকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত নয়।” তিনি দেশীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ কুষ্টিয়া, নাটোর ও রাজশাহীর পদ্মা চরাঞ্চলে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী বাহিনী দমনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের খাসজমি ও বালুমহলকে কেন্দ্র করে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক প্রবেশের বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়ে তিনি পুলিশকে প্রয়োজনীয় যানবাহন সরবরাহের আহ্বান জানান।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করা উচিত। উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাজ ফেলে চলে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট জটিলতা দূর করার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা অভিযোগ করেন, পাঠ্যপুস্তক থেকে হাজী শরিয়ত উল্লাহ ও তিতুমীরের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের অবদান ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি এসব ইতিহাস পুনরায় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রবাসীদের বিমানবন্দর ও পাসপোর্টসেবায় হয়রানি বন্ধ এবং বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবি জানান।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রাকে ‘স্বপ্নবিলাসী’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ ছাপানো হলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। পাশাপাশি গণভোটে জনগণের দেওয়া সংস্কার-সংক্রান্ত রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করা হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা বাজেট বাস্তবায়নের পথেও বাধা হয়ে দাঁড়াবে।







