বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ বহুবার গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের সাক্ষী হয়েছে। তাই সরকারকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, “হয় সব হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় ক্ষমতা ছাড়ার পথ খুঁজে নিন।”
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে দল একসময় নির্যাতিত ও বঞ্চিত ছিল, ক্ষমতায় এসে তাদের অবস্থান বদলে গেছে। নির্বাচনের আগে তারা ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় সংঘটিত সব অপরাধের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং গত চার মাসে শত শত মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কীভাবে পেয়েছেন, তা আপনারাই ভালো জানেন। এ বিষয়ে আপনাদের দল এবং আগের সরকারের ভেতর থেকেও নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আমরা বিনয়ের সঙ্গে বলছি—মজলুম থেকে জালেম হয়ে উঠবেন না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করুন।”
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দেশকে আবারও একদলীয় শাসনের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হচ্ছে। বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের এক নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। ইসলামের আদর্শ এ দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত।”
তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘নির্মূল’ করার কথা বলেছিল, ইতিহাসে তারাই হারিয়ে গেছে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে নতুন একটি গণআন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “বাংলাদেশের দিকে কেউ কুদৃষ্টি দিলে জনগণই তার জবাব দেবে। দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় আমরা সবসময় সামনের সারিতে থাকব।”
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে যতদিন প্রয়োজন ততদিন তারা সংসদে থাকবেন। তবে যদি মনে হয় সংসদে থেকে জনগণের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে না, তাহলে তারা সংসদ ত্যাগের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখেন এবং অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।







