গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে ‘ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সাঘাটা উপজেলা বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এ ঘটনার জন্য দলকে দায়ী করার সুযোগ নেই।
সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সাঘাটা উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপ। এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মোহাম্মদ আলীসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২১ জুন বোনারপাড়ার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুল এবং ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিএনপির দাবি, এ বিরোধ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং স্থানীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। ফলে এ ঘটনাকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
বিএনপি নেতারা বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডই গ্রহণযোগ্য নয় এবং দল কখনো এমন কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। সাইফুল্লাহ বারীর মৃত্যুর ঘটনায় তারা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিএনপির অভিযোগ, ঘটনার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কিছু নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে বোনারপাড়ায় অবস্থিত উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পাশাপাশি নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন বিএনপি নেতারা। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা বলেন, একটি অপরাধের প্রতিক্রিয়ায় আরেকটি অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
উপজেলা বিএনপির নেতারা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, অপরাধী হিসেবেই বিচার করতে হবে। তারা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সহিংসতার উভয় ঘটনারই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত, যাতে প্রকৃত দোষীরা আইনের আওতায় আসে এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হয়।
উল্লেখ্য, গত রোববার (২১ জুন) বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সহযোগীরা তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর রাতেই জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষুব্ধ জনতা মুকুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
সাইফুল্লাহ বারীর হত্যার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার বোনারপাড়া সরকারি আজহার আলী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত তার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি চালাচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







