রাজধানীর শ্যামলীর একটি বেসরকারি শিশু হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ লাইনে লিকেজের ঘটনায় চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে শ্যামলী এলাকার ‘শ্যামলী বেবি কেয়ার’ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। শিশুর স্বজনরা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করলেও কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিহত শিশুর বাবা মো. ফারুক অভিযোগ করেন, তার সন্তান গত পাঁচ দিন ধরে হাম-পরবর্তী জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসার একপর্যায়ে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে। এরপর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয় এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। তিনি দাবি করেন, অক্সিজেন লাইনের লিকেজই তার সন্তানের মৃত্যুর কারণ।
হাসপাতালের এক দায়িত্বরত চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। এ সময় শিশুর বাবার সঙ্গে কথা বলার মধ্যেই একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে জানা যায়, অক্সিজেন সরবরাহ লাইনে লিকেজ হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে হাসপাতালের এইচডিইউতে স্থানান্তর করে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, গ্যাস লিকেজের ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও পাঁচ শিশুকে একই ভবনে অবস্থিত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে অক্সিজেন লাইনের লিকেজের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, শিশুটি হাম-পরবর্তী জটিলতায় ভুগছিল এবং বিকাল থেকেই তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হচ্ছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফ বলেন, রোগীর স্বজনরা বিস্ফোরণের অভিযোগ করলেও ঘটনাস্থলে তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকৃত কারণ উদঘাটনে যেকোনো তদন্তে তারা সহযোগিতা করবে।







