মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের এক শীর্ষ নেতার সাংবাদিকদের নিয়ে করা আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। অন্যদিকে জেলা যুবদল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে একটি প্রতিবাদ মিছিল শেষে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘরোয়া আলাপকালে তিনি এসব আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যে দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আব্দুস সালামকে বলতে শোনা যায়, কিছু সাংবাদিক তাদের সংগঠনকে হেয় করার চেষ্টা করছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যুবদলের পক্ষ থেকে যেসব তথ্য বা বক্তব্য দেওয়া হবে, সেগুলো প্রচার করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’ একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, ‘দৌলতপুরে কোনো সাংবাদিক নেই, শুধু রিপোর্টার আছে। এলাকায় রিপোর্টিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে উপজেলা বিএনপির মাধ্যমে করতে হবে।’
তার এমন বক্তব্য প্রকাশ পাওয়ার পর পুরো মানিকগঞ্জের সাংবাদিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আব্দুস সালাম দাবি করেন, তিনি ঢালাওভাবে সব সাংবাদিককে বলেননি, মূলত বিগত আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিকদের বিষয়েই ওই বক্তব্য দিয়েছেন। তবে যারা দেশ ও জনগণের স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ কাজ করেন, তাদের তিনি সবসময় স্বাগত জানান বলেও উল্লেখ করেন।
যুবদল নেতার এমন রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সালমান খান বলেন, “সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল পেশা। সাংবাদিকদের কোনো রাজনৈতিক দলের আওতাভুক্ত করার চেষ্টা বা এমন অবমাননাকর মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি অনতিবিলম্বে আব্দুস সালামকে এ ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোশতাক হোসেন দীপু বলেন, “সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সম্পর্কে এমন মন্তব্য বর্তমান গণতান্ত্রিক চর্চা এবং যুবদলের দলীয় আদর্শের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। খুব দ্রুতই সংশ্লিষ্ট নেতার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে এবং দলগতভাবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”







