ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ ও মুসলিম বসতি উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ (জেআইএইচ)।
সংগঠনটির অভিযোগ, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার নামে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা তথা এসআইআর কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ ও আবাসিক এলাকায় মুসলিম বসতি উচ্ছেদ অভিযানকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ (জেআইএইচ)। সংগঠনটির দাবি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেআইএইচের সহসভাপতি সালিম ইঞ্জিনিয়ার বলেন, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বেছে বেছে টার্গেট করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সালিম ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে বেছে বেছে ব্যবস্থা নেয়া গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে স্পষ্ট পক্ষপাতমূলক আচরণ দেখা যাচ্ছে। এক-দুটি হিন্দু স্থাপনাও ভাঙা হয়েছে, কিন্তু এভাবে হওয়া উচিত নয়। সরকার মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে শাসন করতে চাইছে। উন্নয়ন ও নিরাপত্তার নামে এসব উচ্ছেদ অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না।’
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই কার্যক্রমের বিরোধিতা করছে না সংগঠনটি। তবে যেভাবে তাড়াহুড়া করে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, সেটি নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এসআইআর কার্যক্রমের বিরোধী নই। আমরা বিরোধিতা করছি যেভাবে তাড়াহুড়া করে এটি পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনও বৈধ নাগরিক যেন এ প্রক্রিয়া থেকে বাদ না পড়েন। অনেক মানুষ কাজের জন্য অন্য রাজ্যে থাকেন। যাচাইয়ের সময় তারা উপস্থিত নাও থাকতে পারেন। তাই তাদের নাম বাদ দেয়া উচিত নয় এবং কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কেও টার্গেট করা উচিত নয়।’
এর আগে নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জেআইএইচ দাবি করে, রাজস্থানের কয়েকটি এলাকা পরিদর্শনকারী তাদের প্রতিনিধি দল এমন কিছু ঘটনা পেয়েছে, যেখানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মসজিদ, দরগা ও অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
সংগঠনটির অভিযোগ, মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় আরও বেশি স্বচ্ছতা, সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আইনের দৃষ্টিতে সবার জন্য সমান আচরণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এছাড়া এসআইআর কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নাগরিকবান্ধব করার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ। পাশাপাশি, যোগ্য ভোটাররা যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।







