বাংলাদেশ পুলিশের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ আরও ৩৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক কয়েকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ‘জনস্বার্থে’ সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী এই কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁকে অবসরে পাঠাতে পারে। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ১ জন পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ডিআইজি পদমর্যাদার ১৪ কর্মকর্তা হলেন—মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মিরাজ উদ্দিন আহমেদ, শাহ মিজান শাফিউর রহমান, এস এম মোস্তাক আহমেদ খান, জিহাদুল কবির, মঈনুল হক, ইলিয়াছ শরীফ, শ্যামল কুমার নাথ, জাকির হোসেন খান, শাহ আবিদ হোসেন, জামিল হাসান, মাহবুবুর রহমান ও মো. মনিরুজ্জামান।
অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ১৮ কর্মকর্তা হলেন—বরকতউল্লাহ খান, টি এম মোজাহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন খান, মোহা. মনিরুজ্জামান, মেহেদুল করিম, আলমগীর কবির, রশীদুল হাসান, সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, নিজামুল হক মোল্লা, এস এম ইমরান হোসেন, সাইদুর রহমান খান, শামসুন্নাহার, মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইফুল্লাহ আল মামুন, খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, সাজিদ হোসেন, শেখ রফিকুল ইসলাম ও মাশরুকুর রহমান খালেদ। এছাড়া পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আরেফকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে কর্মরত ছিলেন, আবার কেউ কেউ বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত বা বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলেও এই কর্মকর্তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য সব ধরনের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
উল্লেখ্য, পুলিশ প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে এর আগেও একাধিক দফায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠিয়েছে বর্তমান সরকার। এর আগে গত ৩ মে ১৬ জন ডিআইজিসহ ১৭ জন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে এবং গত ২২ এপ্রিল আরও ১১ জন ডিআইজি ও ২ জন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।







