ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় দিনের জানাজা ও শোক র্যালি লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে এক বিশাল মহাসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে আলী খামেনির কফিন রাজধানী তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নিয়ে আসা হলে সেখানে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জনসমাগম প্রত্যক্ষ করা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরআইবি তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম পোস্টে জানিয়েছে, খামেনির জানাজা ও শোক র্যালিতে অংশ নিতে সকাল থেকেই তেহরানের রাস্তায় শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্স থেকে এই শোক র্যালি শুরু হয়। এই কমপ্লেক্সেই সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনির মরদেহ দুই দিন রাখা হয়েছিল।
এর আগে, সাত দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক শোক ও দাফনপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রোববার সকাল ৮টায় তেহরানে তাঁর প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়, যেখানে শিয়া ধর্মীয় নেতা জাফর সোবহানি ইমামতি করেন। গত শনিবারও লাখ লাখ ইরানি খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে বড় জনসমাগম হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের প্রথম দিন মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় খামেনির মেয়ে বুশরা খামেনি এবং তাঁর মাত্র ১৪ মাস বয়সি নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানিও নিহত হন। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত মার্চ মাসের দাফন সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
জানাজা ও শোক প্রকাশ উপলক্ষে তেহরানজুড়ে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদপিষ্ট হওয়ার ঝুঁকির ব্যাপারেও সতর্ক করেছে প্রশাসন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা আলী খামেনি এই শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না। সম্প্রতি ইসরাইল তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় এই সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এই বিশাল জমায়েতকে নিজেদের শক্তি ও প্রতিরোধের বার্তা হিসেবে দেখাতে চাইছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। সোমবারের র্যালিতে উপস্থিত লাখো মানুষ শোকের প্রতীক হিসেবে কালো পোশাক পরেন এবং প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে রক্তলাল পতাকা হাতে তুলে নেন। এ সময় সমবেত জনতাকে কান্নার পাশাপাশি ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, শোকমিছিল শেষে মঙ্গলবার খামেনির কফিন নিয়ে যাওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে। এরপর বুধবার কফিনটি নেওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকে। সবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।







