ফরিদপুরের আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওবায়দুর রহমান একটি কক্ষের ভেতর এক নারীর সঙ্গে অত্যন্ত অন্তরঙ্গ অবস্থায় রয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, ওবায়দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নারীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীকে ভালো বেতনে বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে তিনি এই অনৈতিক কাজ করে থাকতে পারেন। এর আগেও বিদেশে পাঠানোর নাম করে বিভিন্ন নারীর কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এদিকে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা জানিয়েছেন, এই ভিডিও ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে গত দুদিন আগে এলাকায় একটি ঘরোয়া সালিশ-মীমাংসার বৈঠকও হয়েছিল। তবে সালিশের পরেও কারা বা কীভাবে এই আপত্তিকর ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ওবায়দুর রহমান। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন এবং তাঁর ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য অন্য কারও ভিডিওর মাধ্যমে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ক্লিপটি কোনোভাবেই তাঁর নয় বলে তিনি জোরালো দাবি করেন।
এ বিষয়ে আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ওবায়দুরের দলীয় পদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওবায়দুর রহমান ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আগে বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসা করতেন বলে জানলেও এই বিতর্কিত ভিডিওর বিষয়ে তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে দলীয় নেতার এমন নৈতিক স্খলনের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে জেলা বিএনপিতে। ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরীয়া স্বপন এ প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, দলের কোনো স্তরের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







