খাগড়াছড়ির রামগড়ে সাত বছর বয়সি এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মো. শাহিন (৫২) নামে এক চা-দোকানিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে খাগড়াছড়ির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়লা শারমিন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাহিন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৫ জুলাই খাগড়াছড়ির রামগড় এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে খাবারের লোভ দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে শাহিন। এই অমানবিক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চা-দোকানি মো. শাহিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
মামলাটি আদালতে ওঠার পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ অত্যন্ত সফলভাবে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। দীর্ঘ শুনানির পর বিজ্ঞ বিচারক আসামির অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) সৃজনী ত্রিপুরা সন্তোষ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগী শিশু এবং তার পরিবারের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে। সমাজে এ ধরনের অপরাধ দমনে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তবে এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী বেদারুল ইসলাম। তিনি জানান, তারা নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ এবং ন্যায়বিচারের আশায় খুব দ্রুত উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) আপিল দায়ের করবেন।







