রাশিয়া থেকে কেনা দুটি সামরিক ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার সাড়ে পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও দেশে নিয়ে আসতে পারেনি সরকার। নৌ ও পাহাড়ি এলাকায় পুলিশের আভিযানিক সক্ষমতা বাড়াতে রুশ প্রতিষ্ঠান ‘জেএসসি রাশিয়ান হেলিকপ্টার্স’ থেকে ‘এমআই-১৭১এ-২’ (Mi-171A-2) মডেলের এই হেলিকপ্টার দুটি কেনা হয়েছিল। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জটিলতায় হেলিকপ্টার দুটি বাংলাদেশ পুলিশে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে দুই কিস্তিতে ২৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫২১ টাকা রুশ প্রতিষ্ঠানটিকে পরিশোধ করেছে এবং অবশিষ্ট অর্থও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিষয়টি সুরাহার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও একাধিকবার চিঠি চালাচালি হলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে হেলিকপ্টার দুটি দেশে আনা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে সরকার। ফলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের করা এই চুক্তির কারণে এখন বড় ধরনের নীতিগত বিপাকে পড়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
হেলিকপ্টার আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় এখন পরিশোধিত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্তমানে চিঠির খসড়া বা ড্রাফট তৈরির কাজ চলছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব টাকা ফেরতের চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (পুলিশ এভিয়েশন) খন্দকার গোলাম মাওলা এখনও আশা না ছেড়ে বিষয়টিকে একটি ‘চলমান প্রক্রিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং রাশিয়ান হেলিকপ্টার্সের মহাপরিচালক আন্দ্রে আই ভোগেনিস্কি এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিলেন। হেলিকপ্টার পরিচালনার জন্য চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পাইলট প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জনবলও তৈরি করা হয়েছিল। তবে হেলিকপ্টার না আসায় পুলিশের ‘এভিয়েশন উইং’ চালু করা যায়নি এবং প্রশিক্ষিত চার পাইলটকে আপাতত র্যাবের এয়ার উইংয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ তৎপরতা এবং দুর্গম পাহাড়ি কিংবা নৌ অঞ্চলে নজরদারির জন্য পুলিশের এই এভিয়েশন উইং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে র্যাবের দুটি হেলিকপ্টার সুন্দরবন ও পাহাড়ি অঞ্চলের দস্যু দমনে যেভাবে সফল ভূমিকা রাখছে, পুলিশও নিজেদের হেলিকপ্টার দিয়ে দেশজুড়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে একই ধরনের গতি আনতে চেয়েছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়া শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টার সরবরাহ করতে না পারায় বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আর্থিক ক্ষতির যুক্তি দেখিয়ে টাকা ফেরতের জন্য বোঝানোর চেষ্টা করবে। রাশিয়া থেকে এই অর্থ ফেরত পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা নেই—এমন যেকোনো বিকল্প দেশ বা প্রতিষ্ঠান থেকে হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।







