ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন নামে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে একদল সাবেক অনুসারী। জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর ‘নেক্সটজেন বাংলাদেশ’ নামের একটি গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই গোপন নেটওয়ার্কের নেপথ্যে মূল সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন ছাত্রলীগ অনুসারী ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আবিদ আব্দুল্লাহ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘নেক্সটজেন বাংলাদেশ’ নামের এই নতুন প্ল্যাটফর্মটি মূলত জুলাই বিপ্লববিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে ছাত্রলীগের একটি বিকল্প সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক হিসেবে দাঁড় করানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্মটির লোকেশন দেখানো হয়েছে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া আবিদ আব্দুল্লাহ নিজেই এই প্ল্যাটফর্মটি সংগঠিত করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি এটিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘সেবামূলক উদ্যোগ’ বলে দাবি করেন। আবিদ জানান, ইতোমধ্যে প্ল্যাটফর্মটির জন্য অনুদান বা ফান্ড সংগ্রহ শুরু হয়েছে এবং সাদা দলের শিক্ষক মুর্শেদ হাসান খানের কাছেও তারা সহায়তার জন্য গিয়েছিলেন।
এই গোপন নেটওয়ার্কে আরাফাত চৌধুরী ও হাসান জুবায়ের নামের আরও দুই ছাত্রলীগ অনুসারীর সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী হাসান জুবায়ের এই প্ল্যাটফর্মের তথ্য সংগ্রহ (ডেটা কালেকশন) ও থিম তৈরিতে কাজ করছেন। অন্যদিকে, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুলিয়াস সিজারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরাফাত চৌধুরীও আবিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নিচ্ছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগ নেতা ফাহাদ আব্দুল্লাহ এবং আরবি বিভাগের হাসীব আল হাসান নামের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী এই গোপন নেটওয়ার্কের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হাসীব আল হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
নিষিদ্ধ সংগঠনটির এমন গোপনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ গোপনে তৎপরতা চালালেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ‘আমরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কার্যক্রমের ব্যাপারে সতর্ক রয়েছি। তারপরও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ কেউ অপতৎপরতা চালাচ্ছে। যারা এর নেপথ্যে কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সচেষ্ট হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেসানি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ গোপনে তৎপরতা চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যেসব তথ্য-প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
একই সুর মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবিএম ওবায়দুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ এই সংগঠনের অনুসারীরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কার্যক্রম চালানোর যে চেষ্টা করছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







