জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সাংবাদিকতার আড়ালে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের তৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকা এবং বহিরাগতকে অবৈধভাবে হলে রাখার অভিযোগে আসাদুল আলম শেখ নামে এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল থেকে তাকে আটক করা হয়।
আসাদুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। জানা গেছে, তিনি ‘চ্যানেল ১৪’ নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই পোর্টালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষে প্রচারণামূলক বিভিন্ন কনটেন্ট প্রকাশ করা হতো। পাশাপাশি আসাদুলের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রচারপত্র লাগানো এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
হল সূত্রে জানা যায়, আসাদুলের কক্ষে গত চার-পাঁচ মাস ধরে এক বহিরাগত ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। গোপন সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষার্থীরা তাঁর কক্ষে গিয়ে ওই ব্যক্তিসহ আসাদুলকে আটক করেন। পরবর্তীতে হল প্রশাসন ওই বহিরাগত ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করে তাকে অবিলম্বে ক্যাম্পাস ত্যাগের নির্দেশ দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হল প্রশাসনের উপস্থিতিতে আসাদুলের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ও বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য মেলে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়।
ঘটনার বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রভোস্ট ড. লুৎফুর এলাহী জানান, আসাদুলের কক্ষে যে ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন তিনি জাবির কোনো ছাত্র নন, একদমই বহিরাগত। প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে গোপনে তাঁকে রাখা হয়েছিল।
সহকারী প্রক্টর ড. আব্দুস সাত্তার জয় বলেন, আসাদুল নিজেই স্বীকার করেছে তার এক আত্মীয় চার-পাঁচ মাস ধরে অন্যায়ভাবে হলে অবস্থান করছিল, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। যেকোনো অনিয়ম বা অপরাধের বিচার আইন অনুযায়ী হবে। আটক শিক্ষার্থীকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।







