মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা কোনো বাইরের দেশের নির্দেশ বা চাপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় আয়োজিত ‘গ্লোবাল টাউন হল ২০২৬’ অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় আরাগচি বলেন, শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে যখন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে, তখন আন্তর্জাতিক নিয়ম ও ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যদি অন্যায় ও সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা না নেয়, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও কমে যেতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে পারস্পরিক আলোচনা ও সংলাপের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব সমাজ ও অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ে।
আরাগচির ভাষ্য, যুদ্ধের ব্যয় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ে। মানুষ করের মাধ্যমে এর অর্থনৈতিক মূল্য পরিশোধ করে। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখোমুখি হন সাধারণ মানুষই—তারা জীবন, রক্ত, ঘরবাড়ি ও ভবিষ্যৎ হারাতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ সম্পর্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির সামরিক উপস্থিতি কিংবা চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে একে অপরের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজতে হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা






