জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পশ্চিমাদের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, ইরান সবসময় সংলাপ ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে কোনো হুমকি বা চাপের কাছে কখনোই মাথা নত করবে না।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলার প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। ইরানের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ইসরায়েল একের পর এক হামলা ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছে, যা ‘প্রকৃত সন্ত্রাসী’ আচরণের শামিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে ইরান সন্ত্রাসী দেশ নয়, বরং নিজেরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার।
জাতিসংঘের মঞ্চে পশ্চিমাদের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) সই না করেও সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছে। অথচ গাজায় ৭০ হাজার মানুষকে হত্যার পরও তাদের শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির পরও ইরানকে প্রতিনিয়ত কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাইছে না। তবে শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার। যে অধিকার স্বাভাবিকভাবেই ইরানের প্রাপ্য, সেখান থেকে তেহরান কখনোই পিছিয়ে আসবে না।
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অকার্যকারিতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, যে বিশ্ব কেবল শক্তির ভাষা বোঝে, সেখানে টেকসই শান্তি সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক আইন যদি কেবল শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, তবে বিশ্বজুড়ে সামরিকীকরণ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা মানবজাতির জন্য আরও বিপজ্জনক এক ভবিষ্যতের সূচনা করবে।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও জুনে ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ৬০ দিনের আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলে মার্কিন প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোতে সামরিক অবরোধ পুনর্বহাল করে, যার জবাবে তেহরানও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে।







