চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে যুবদল নেতা শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে ট্রাকচালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ৬৭ হাজার ২০০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা (জৈব সার) লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত জৈব সারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জোরারগঞ্জ উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা মজল হক (৩০) ও মো. শাকিল (২৪)। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শাখাওয়াত হোসেন করেরহাট ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই একদল লোক এ লুটপাট চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী রিপন হোসেন প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে নাহার অ্যাগ্রো ফিড লিমিটেড থেকে এসব মুরগির বিষ্ঠা ক্রয় করেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে চারটি ট্রাকে করে ১ হাজার ৬৮০ বস্তা জৈব সার ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে হাবিলদারবাসা এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা ট্রাকগুলোর গতি আটকায়।
অভিযুক্তরা অস্ত্রের মুখে চালকদের নামিয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং ট্রাকগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার এক খালি জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে দ্রুত শ্রমিক দিয়ে সব সার নামিয়ে নেওয়ার পর চালকদের বাইকে করে এনে মোবাইল ফেরত দিয়ে ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ব্যবসায়ী রিপন হোসেন বাদী হয়ে যুবদল নেতা শাখাওয়াত হোসেনসহ চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা শাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই যুক্ত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাপাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত সার উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং যুবদল নেতাসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







