ভারত সরকারের মদদপুষ্ট ও চরম বিতর্কিত ‘গোদি মিডিয়া’র দেশে প্রশিক্ষণ নিতে গেলেন বাংলাদেশের ৪২ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক! ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি অর্থায়নে ও ‘আইটিইসি’ (ITEC) প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশের প্রধান সারির গণমাধ্যমের এই প্রতিনিধিরা সম্প্রতি তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে অবস্থিত ‘ড. মারি চান্না রেড্ডি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে’ ৭ দিনের এক বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
বিমানে যাতায়াত, অভিজাত হোটেলে থাকা-খাওয়াসহ কোটি টাকার এই আয়োজনের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করেছে মোদি সরকার। প্রথম দর্শনে এটি সাধারণ কোনো কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ মনে হলেও, এর ভেতরে সুগভীর গোয়েন্দা স্বার্থ ও নজরদারির ছক রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
অভিযোগ রয়েছে, হায়দরাবাদের এই প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটি মূলত ভারতের সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীদের প্রযুক্তিগত কৌশল এবং প্রোপাগান্ডা পরিচালনার বিশেষ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে বাংলাদেশি মূলধারার গণমাধ্যমের এত বড় একটি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে ‘বিশেষ পাঠ’ দেওয়ার আসল উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে নিজেদের ‘সফট পাওয়ার প্রজেকশন’ প্রতিষ্ঠা এবং মিডিয়াকে ব্যবহার করে নিজস্ব এজেন্ডার পক্ষে জনমত তৈরিতে ভারত বরাবরই সিদ্ধহস্ত। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে টাইমিং নিয়ে—বর্তমানে বাংলাদেশ যখন চীন, জাপান, মালয়েশিয়া ও তুরস্কের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর সাথে জ্বালানি, কয়লা উত্তোলন, এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎ খাতের বহু বিলিয়ন ডলারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর দর-কষাকষি করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোকে এভাবে ভারতের অর্থায়নে প্রশিক্ষিত করার নেপথ্য কারণ কী?
জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই ৪২ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ওপর কঠোর সরকারি ও গোয়েন্দা নজরদারি রাখা এখন সময়ের দাবি। তারা দেশে ফিরে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও মেগা প্রকল্পের বিরুদ্ধে ভারতের হয়ে কোনো এজেন্ডা বা বয়ান বাস্তবায়নে নামছেন কি না, সে বিষয়ে সজাগ থাকা প্রয়োজন।







