পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে কীভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে হবে, তা নিয়ে নাগরিকদের জন্য একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা প্রচার করছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমগুলো। এসব নির্দেশনায় বিস্ফোরণের আলো, তেজস্ক্রিয় ধুলা ও বিকিরণ থেকে বাঁচতে করণীয় তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের প্রচারিত নির্দেশনাগুলো হলো—
১. বিস্ফোরণের আলো থেকে চোখ রক্ষা করুন: পারমাণবিক বিস্ফোরণের তীব্র আলো সরাসরি তাকিয়ে দেখা যাবে না।
২. বাইরে থাকলে দ্রুত আড়াল নিন: কাছাকাছি কোনো ভবনে ঢোকা সম্ভব না হলে শক্ত দেয়াল বা অন্য কোনো বাধার পেছনে আশ্রয় নিন। মাটিতে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখুন।
৩. বিস্ফোরণের ধাক্কা কেটে গেলে ভবনে প্রবেশ করুন: কাছের নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিন। বিস্ফোরণ দেখতে বা ছবি তুলতে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবেন না। গাড়ির ভেতরেও আশ্রয় নেবেন না।
৪. ভবনের নিরাপদ স্থানে থাকুন: বেজমেন্ট অথবা ভবনের মাঝামাঝি অংশে অবস্থান করুন। জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকুন।
৫. বাইরের বাতাস প্রবেশ বন্ধ করুন: দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন। বাইরে থেকে বাতাস টানে—এমন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা বন্ধ করুন।
৬. দূষিত পোশাক সাবধানে খুলুন: বাইরে অবস্থান করে থাকলে বাইরের পোশাক ঝাঁকানো ছাড়াই খুলে একটি বন্ধ ব্যাগে রাখুন। ব্যাগটি অন্যদের থেকে দূরে রাখুন। তবে সেটি ফেলে দিতে বাইরে যাবেন না।
৭. শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করুন: কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে গোসল করুন। সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, কন্ডিশনার নয়। গোসল সম্ভব না হলে মুখ, হাত ও খোলা ত্বক পানি বা ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন।
৮. নিরাপদ খাবার ও পানি ব্যবহার করুন: বোতলজাত পানি এবং মোড়কজাত খাবার গ্রহণ করুন। অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়ে থাকার প্রস্তুতি রাখুন।
৯. কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আশ্রয় ছাড়বেন না: ২৪ ঘণ্টা পার হলেই পরিবেশ নিরাপদ হয়ে গেছে—এমনটি ধরে নেবেন না। সরকারি ঘোষণা ও নিরাপদে বের হওয়ার নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
১০. ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হলে নিরাপদ স্থানে সরে যান: আশ্রয় নেওয়া ভবনে আগুন লাগলে বা সেটি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে অন্য নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন।
১১. পরিবারের সবাইকে আগে থেকেই প্রস্তুত করুন: জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আগেই আলোচনা করে রাখুন।







