নওগাঁর মহাদেবপুরে ভাঙারি ব্যবসায়ীর পিকআপ আটকে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ডিবির যৌথ অভিযানে এ ঘটনায় জড়িত উপজেলা কৃষকদলের দুই নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উপজেলা কৃষকদলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সদরের বাগানবাড়ি গ্রামের রবিন (২৫), কৃষকদল নেতা মুন্না (২৪) এবং ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী ও ভাঙারি ব্যবসার পিকআপচালক সোহেল রানা (২৫)। এর মধ্যে মুন্নার বিরুদ্ধে পূর্বে চুরি ও অন্যান্য অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে আটটার দিকে, নওগাঁ-মহাদেবপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের চৌদ্দমাইল ব্রিজ এলাকায়। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার ভাঙারি ব্যবসায়ী আব্দুল আলিমের ম্যানেজার মজনু মিয়া ও পিকআপচালক সোহেল রানা বগুড়া থেকে মালামাল বিক্রির নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন।
পথিমধ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী চালক সোহেল রানা ইচ্ছাকৃতভাবে পিকআপটি বিকল করেন। এরপর ওঁৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেলে এসে ড্রাইভারকে সামান্য মারধর করলেও ম্যানেজার মজনুকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং সম্পূর্ণ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত ম্যানেজারকে উদ্ধার করে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনাটি জানার পর নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সরাসরি নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে মাঠে নামে মহাদেবপুর থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি যৌথ টিম। তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে চালানো এই ঝটিকা অভিযানে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে মুন্নাকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বাসা থেকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে অপর সহযোগী কৃষকদল নেতা রবিনকে তার ভাড়া বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। এ সময় রবিনের কাছ থেকে আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দু’জনের স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইয়ের মূল মাস্টারমাইন্ড ও পিকআপচালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চালক সোহেল ও মুন্না মিলে গত এক সপ্তাহ ধরে এই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল এবং এতে প্রধান ভূমিকায় ছিল রবিন।
সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ ও ছিনতাই কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশ সুপার। এদিকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত উপজেলা কৃষকদলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রবিনকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি।







