তুরস্কের পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে বহুল আলোচিত ‘মক্কা চুক্তি’ অনুমোদিত হয়েছে। তবে বিল পাসের এই লড়াইয়ে দেশটির চিরাচরিত রাজনৈতিক সমীকরণ ও আদর্শিক হিসাব পুরোপুরি উল্টে গেছে। ৬০০ আসনবিশিষ্ট তুর্কি পার্লামেন্টে ২৭৭ সংসদ সদস্য চুক্তির পক্ষে ভোট দেন। এর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১১৮টি এবং ১৯৭ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।
প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ক্ষমতাসীন জোট জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) ও শরিক ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টির (এমএইচপি) সমর্থন চুক্তিটি পাসের পথ সুগম করে। তবে চরম বিস্ময়ের বিষয় হলো, ক্ষমতাসীন এই জোটেরই অন্তত ৮৫ জন এমপি ভোটাভুটির সময়ে রহস্যজনকভাবে অনুপস্থিত থেকেছেন বা ভোটদান এড়িয়ে গেছেন।
তবে পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে কট্টর সেক্যুলার আদর্শের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)। ঐতিহাসিকভাবে যেকোনো স্পর্শকাতর বা পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত সরকারি প্রস্তাবের বিরোধিতা করা সিএইচপি সব প্রথা ভেঙে মক্কা চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভোট প্রদান করেছে।
অন্যদিকে মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামী ঐক্যের কথা বলা তুরস্কের কট্টর ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এই চুক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছে। সাদেত পার্টি এবং নিউ রেফাহ পার্টির মতো প্রধান ইসলামপন্থী দলগুলো বিলটিকে প্রত্যাখ্যান করে এর বিপক্ষে কঠোরভাবে ভোট দেয়।
এদিকে তুর্কি ইসলামপন্থীদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কুর্দিভিত্তিক রাজনৈতিক দল ‘হুদা পার’ (HÜDA PAR) পুরো ভোটাভুটি অধিবেশনই বর্জন করেছে। অন্যদিকে সিএইচপি থেকে বের হয়ে গঠিত হওয়া নতুন রাজনৈতিক দলটি চুক্তির বিরোধিতা করে ভোট দিয়েছে।
মধ্যপন্থা ও জাতীয়তাবাদী ধারার দল ‘ইই পার্টি’ (গুড পার্টি) এবং কুর্দি সভাবোঝা দল ‘ডিইএম’ (DEM Party) চুক্তির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভোট প্রদান করেছে। সিএইচপির আকস্মিক সমর্থন এবং ইসলামপন্থীদের উল্টো অবস্থানের মধ্য দিয়ে তুরস্কের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের সূচনা হলো।







