ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের চিন্তাভাবনা ‘শয়তান নিয়ন্ত্রণ করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। একই সঙ্গে যুদ্ধের সমালোচনাকারীরা ‘আধ্যাত্মিক অন্ধকার ও অন্ধত্বে’ ভুগছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। তার এমন মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি দেশটির রক্ষণশীল রাজনৈতিক শিবিরের মধ্য থেকেও তার বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়েছে।
গত ২৩ অক্টোবর ইসরাইলি উপস্থাপক আমির তসারফাতির সঞ্চালনায় ‘দ্য অ্যাংকর পডকাস্ট’-এ অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন মাইক হাকাবি।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধিতাকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শয়তান তাদের মনকে অন্ধ করে দিয়েছে এবং তাদের চিন্তাভাবনাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে।’ তার মতে, যারা এই যুদ্ধের সমালোচনা করছেন, তারা মূলত আধ্যাত্মিক অন্ধকার ও অন্ধত্বের মধ্যে রয়েছেন।
হাকাবির এই বক্তব্যের ভিডিও গত সপ্তাহের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তার মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ওই নির্বাচনকে অনেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি জনসমর্থন, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে জনগণের মনোভাব যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন।
হাকাবির বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সাময়িকী ‘দ্য আমেরিকান কনজারভেটিভ’-এর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক অ্যান্ড্রু ডে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইরান যুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা শয়তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন—এমন দাবি করার সময় রাষ্ট্রদূত হাকাবি নিজেই স্বীকার করেছেন, একজন রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের বক্তব্য কিছুটা অস্বাভাবিক শোনাতে পারে। এ প্রসঙ্গে অ্যান্ড্রু ডে ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘হ্যাঁ, সত্যিই তা-ই!’
এদিকে, হাকাবির মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি তাকে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও উঠেছে। সমালোচকদের মতে, কোনো যুদ্ধের বিরোধিতা করা মানুষের রাজনৈতিক বা নীতিগত অবস্থান হতে পারে; তাদের এভাবে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিকভাবে আখ্যায়িত করা কূটনৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
হাকাবির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে ইরান যুদ্ধের প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে যুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান এবং মার্কিন কূটনীতিকদের বক্তব্যের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।







