জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে—তিনি ছিলেন অনানুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের নিপীড়নের শিকার, আপোষহীন মুরুব্বি বলে দাবি করেন তাঁর অনেকে; আবার তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনাও তুলেছেন বরাবরই রাজনীতির ভেতরে থাকা কর্মীরাও।
সমর্থকরা বলছেন, জুনায়েদ বাবুনগরী জেলে থাকা অবস্থায় নির্মম ও অনৈতিকভাবে আচরণে অসুস্থ হয়ে পড়েন; পরে মুক্তি পাওয়ার পরও তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। সমর্থকরা অভিযোগ করেন, তৎকালীন শাসকদল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তারেকারে দমন-পীড়নে জড়িত ছিল। এসব অভিযোগ অনেকটাই জনমনে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে প্রকাশ্য তদন্ত বা সুস্পষ্ট নিষ্পত্তি দেখা যায়নি বলে সমর্থকদের একাংশ মনে করেন।
অন্যদিকে জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুর পর তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণকারী মহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। কিছু সমালোচক মনে করেন, মহিবুল্লাহ সাংগঠনিকভাবে ‘গদিনশীল’ হয়ে পড়েছেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ ও স্থানীয় তত্ত্বাবধানে আগের ভাবমূর্তির থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সমালোচকদের অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিক বাস্তবতায় মিশে যাওয়া, ভূমি-দফতরি সম্পত্তি ইত্যাদির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে তিনি সংগঠনের ঐতিহ্যগত অবস্থান থেকে সরে গেছেন—তবে এ ধরনের অভিযোগও সমালোচনামূলক সূত্র থেকে উঠে আসা এবং তা প্রত্যেক ক্ষেত্রে প্রমাণিত নয়।
হেফাজত ও অনুরূপ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংবেদনশীল সম্পর্কের প্রসঙ্গ ওঠাতে সমর্থকরা বলেন, ওই সংগঠনগুলোতে একটি আবেগগত আস্থা কাজ করে—শহীদ স্থানের স্মৃতি, সংগঠনের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের মূল্যায়ন এখনও অনেকের কাছে জীবন্ত। তাই কোনো নেতার ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক কাজকে নিয়ে সমালোচনা করলে সেটি উগ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে; অপরপক্ষে, সংগঠনকে আধুনিক রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে টিকে থাকতে হলে বিষয়গুলোর সাহসীভাবে মোকাবিলা জরুরি—এই যুক্তিও উঠে আসে রাজনীতি বিশ্লেষক ও অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষকদের বক্তব্যে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব পরিবর্তন ও নীতিগত প্রশ্নগুলো কেবল ব্যক্তির আচার-আচরণেই সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো সামাজিক প্রত্যাশা, স্থানীয় ক্ষমতা কাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথা—রাজনীতিতে অংশগ্রহণের রূপান্তরের যে চ্যালেঞ্জ তা নিয়েও প্রাসঙ্গিক। অনেকে মনে করেন, আবেগ ও ঐতিহ্য বজায় রেখে বাস্তবনীতির সঙ্গে সমন্বয়ই ভবিষ্যতের টিকিয়ে রাখার পথ।
অপরদিকে, মহিবুল্লাহর সমর্থকরা এসব সমালোচনাকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কটাক্ষ করেন। তারা বলেন, নেতাদের ব্যক্তিগত জীবন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টি করা মানায় না; বরং শান্তি, সংহতি ও সংগঠনের সামনে থাকা বৃহত্তর কাজগুলোতে মনোনিবেশ করা উচিত।







