এক সময় ছিলেন ছাত্রলীগপন্থী—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের প্রশংসায় নিয়মিত পোস্ট দিতেন, এমনকি শেখ হাসিনার পক্ষে ভোট চেয়েও লিখেছিলেন স্ট্যাটাস। সেই মো. শাফায়াত হোসেন এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড ফিজিক্যাল এডুকেশন বিভাগের শিক্ষার্থী শাফায়াতের পুরনো ফেসবুক পোস্টের কয়েকটি স্ক্রিনশট সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব পোস্ট প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
বিতর্কিত পোস্টগুলো নিয়ে জানতে চাইলে শাফায়াত হোসেন বলেন, “আমি কখনোই ছাত্রলীগ করিনি। ২০১৭ সাল থেকে আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে কয়েকটি পুরনো পোস্ট করেছিলাম। ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে পিকনিকে গিয়েছিলাম, তাই তার সঙ্গে ছবি পোস্ট করি। প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, তাঁর মৃত্যুতে শোক জানানোতে দোষ নেই। আর রাঙামাটির ছবিটি ছিল বিভাগের ট্যুরের সময়, যেখানে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নাকি আমাদের স্পন্সর করেছিলেন।”
শাফায়াতের পুরনো ফেসবুক পোস্টে দেখা যায়, তিনি একসময় লিখেছিলেন—“নতুন ভোটার তরুণ ভোট, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে হোক। আসুন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনাকে ভোট দিই।”
আরেক পোস্টে আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এ. বি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তিনি।
এছাড়া যশোরের আওয়ামী লীগ নেতা শেখ এবাদত সিদ্দিক বিপুলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ প্রসঙ্গে লিখেছিলেন—“রাজপথের লড়াকু বঙ্গবন্ধুর বীর সৈনিক শেখ এবাদত সিদ্দিক বিপুলের জন্য শুভকামনা।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “শাফায়াত ২০১৮ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়। এর আগের ইতিহাস সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে ছাত্রলীগ থেকে আসা অনেকে এখন অন্যান্য সংগঠনে যুক্ত হচ্ছে, এটা অস্বাভাবিক নয়।”
অন্যদিকে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, “ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত অনেকেই এখন ছাত্রদলে আশ্রয় নিচ্ছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে বহিষ্কৃত কিছু লোককেও তারা দলে অন্তর্ভুক্ত করছে—এটাই এখন নতুন ট্রেন্ড।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—আদর্শিক অবস্থান না বদলে কেবল রাজনৈতিক সুযোগের হিসাবেই কি এখন সংগঠন বেছে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা?







