নরসিংদীতে চাঁদাবাজি দমনে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আনোয়ার হোসেন। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মণদী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, সেদিন এএসপি আনোয়ার হোসেন নিজ উদ্যোগে এলাকায় টহলে ছিলেন। এ সময় তিনি স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজকে অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা তুলতে দেখেন। ঘটনাস্থলেই তিনি দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই ২০-২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
আক্রমণকারীরা এএসপি আনোয়ার হোসেনকে বেধড়ক মারধর করে এবং আটককৃত দুইজনকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চোখের সামনে ঘটনার সাক্ষী স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা প্রকাশ্যে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে নির্বিঘ্নে এলাকা ত্যাগ করে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
নরসিংদী জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর থেকেই হামলাকারীদের শনাক্তে অভিযান চলছে। বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন—এত বড় একজন পুলিশ কর্মকর্তার নিরাপত্তা যদি এমন হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিক কতটা নিরাপদ? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনার ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, এই হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনা হলে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
একজন স্থানীয় বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “এ ঘটনা প্রমাণ করে যে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দাপট কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। যদি এদের কঠোর শাস্তি না হয়, তবে মানুষ পুলিশের ওপর আস্থা হারাবে।”
পুলিশ জানায়, হামলাকারীদের চিহ্নিত করা গেছে এবং খুব শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু হবে।







