বহুল প্রতীক্ষিত ‘জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫’ আজ শুক্রবার স্বাক্ষরিত হচ্ছে। ঐতিহাসিক এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সরকার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এতে অংশ নেবেন জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক এবং কূটনীতিকগণ।
সূত্র জানায়, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বেশিরভাগ দল ইতোমধ্যে স্বাক্ষরের নিশ্চয়তা দিয়েছে। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং কয়েকটি ছোট দলের অংশগ্রহণ নিয়ে শেষ মুহূর্তে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি জানায়, “আইনি ভিত্তি ছাড়া জুলাই সনদ স্বাক্ষর কেবল আনুষ্ঠানিকতা হবে, তাতে আমরা অংশ নেব না।”
তবু সরকার ও ঐকমত্য কমিশন এনসিপিকে অন্তর্ভুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। এনসিপি নেতৃত্বের সঙ্গে সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ও কমিশনের শীর্ষপর্যায়ের সদস্য, এমনকি ড. ইউনূসও যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, “সব দলের উপস্থিতিতে শুক্রবারের অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর করতে আমরা প্রস্তুত। জুলাই সনদ শুধু গত এক বছরের প্রচেষ্টার ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।”
তিনি বলেন, ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত সনদই আজ স্বাক্ষরিত হবে। এরপর তা বাস্তবায়নের প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হবে। “আমরা আশা করি, এনসিপিও শেষ পর্যন্ত এতে অংশ নেবে। শুক্রবারের পরও স্বাক্ষরের সুযোগ থাকবে,” যোগ করেন আলী রীয়াজ।
বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ৪টা ৩০ মিনিটে স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। মাগরিবের বিরতির পর দ্বিতীয় পর্বে প্রজেকশন ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রণয়নের পটভূমি তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এক বার্তায় বলেন, “আমরা চাই, সারা দেশের মানুষ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হোক। বিভাজন নয়, ঐক্যই হবে আমাদের শক্তি।”
এদিকে সংসদ ভবন এলাকায় ড্রোন উড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বামপন্থি চারটি দল—সিপিবি, বাসদ, জাসদ ও বাসদ (মার্কসবাদী)—জুলাই সনদে সই না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা বলেছে, সংবিধানের চার মূলনীতি এতে প্রতিফলিত হয়নি। গণফোরামও জানায়, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত না হলে তারাও স্বাক্ষর করবে না।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই সনদের বৈধতা আসবে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। আইনি ভিত্তি ছাড়া স্বাক্ষর অর্থহীন।” তবে কমিশন সময় বাড়ানোয় ভবিষ্যতে তারা আলোচনায় থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজকের অনুষ্ঠানেই সব দলের প্রতিনিধিরা সনদের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করবেন, পরে কমিশনের সদস্য ও প্রধান উপদেষ্টা স্বাক্ষর সম্পন্ন করবেন।
এই স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।







