বরিশালের গৌরনদীতে আলোচিত দুইটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য পাঁচ বছরেও উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। একটি ঘটনায় নিহত যুবক মামুন রাঢ়ীর লাশ উদ্ধারের পরও হত্যাকারীরা এখনো অজ্ঞাত থেকে গেছে, আরেকটি ঘটনায় ১৫ মাস পার হলেও অজ্ঞাতপরিচয় আরেক যুবকের পরিচয় পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট। ওই দিন রাতে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বন্দর থেকে নিজের ইজিবাইকসহ নিখোঁজ হন মামুন রাঢ়ী। তিনি উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের উত্তর মোড়াকাঠী গ্রামের আব্দুস সালাম রাঢ়ীর ছেলে। সাতদিন পর ২৬ আগস্ট সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বার্থী বাজারসংলগ্ন খালে তার গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত লাশ ভেসে ওঠে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুস সালাম রাঢ়ী বাদী হয়ে গৌরনদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা সিআইডিকে। সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ও নিহতের গ্রাম পরিদর্শন করলেও হত্যার ক্লু, ইজিবাইক উদ্ধার বা কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি।
নিহতের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২০২4 সালের ২০ জুলাই। সেদিন সকালে গৌরনদীর খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের এক পাটক্ষেতের আইলে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয় এবং চৌকিদার মো. মাহবুব মৃধাকে বাদী করে অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম জানান, লাশের গায়ে নেভি-ব্লু রঙের টি-শার্ট ও জলপাই রঙের গ্যাবাডিং প্যান্ট ছিল। তার উচ্চতা পাঁচ ফুট, গায়ের রং কালো, মুখমণ্ডল লম্বাটে, কোঁকড়ানো দাড়ি ও চুল ছিল। ময়নাতদন্তে মাথায় আঘাত করে হত্যার প্রমাণ মেলে।
তিনি আরও বলেন, ১৫ মাস পার হলেও এখনো নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় জানা না যাওয়ায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে হত্যাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।







