জাপানে নারী নেতৃত্ব এখনো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধায় আটকে রয়েছে। উন্নত দেশের তালিকায় থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে নারী-পুরুষ বৈষম্য এখনো প্রকট। রাজনীতি, প্রশাসন ও কর্মক্ষেত্র—সব জায়গাতেই নারীদের অগ্রযাত্রা নানা প্রতিবন্ধকতায় থমকে আছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনের আশায় বিদেশ থেকে নিজ শহর মিয়াকোতে ফিরে আসেন মাকোতো সাসাকি। কিন্তু রাজনীতিতে আসার আগে সমাজ তাকে সংসার ও মাতৃত্বে মনোযোগ দিতে পরামর্শ দেয়। এ প্রসঙ্গে সাসাকি বলেন, “তারা বলেছিল, আমি যদি এত কাজ করি, তাহলে বিয়ে হবে না, সন্তান না হলে আমি পূর্ণ মানুষ নই—এমন কথা শুনে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।” পরে ২৭ বছর বয়সে তিনি নির্বাচনে জয়ী হন এবং মিয়াকো কাউন্সিলের ২২ সদস্যের একজন নির্বাচিত হন। বর্তমানে ওই কাউন্সিলে নারী সদস্য মাত্র তিনজন।
একইভাবে রাজনীতিতে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন টোকিওর কাছে আতসুগি শহরের ৩৪ বছর বয়সি কাউন্সিলর এরিকা সুমোরি। তিনি বলেন, “আমার শহর রক্ষণশীল, তাই নির্বাচনের সময় আমাকে সিঙ্গেল মাদার পরিচয় গোপন রাখতে বলা হয়েছিল।”
নারীদের প্রতি এই সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই জাপানের রাজনীতিতে নতুন মাইলফলক তৈরি হয়েছে মঙ্গলবার, যখন সানায়ে তাকাইচি দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। বুধবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, তাকাইচি নারী হলেও তার রক্ষণশীল অবস্থানের কারণে নারী নেতৃত্বে বিশেষ পরিবর্তন আসবে না।
নির্বাচনের আগে তাকাইচি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নারীদের সমতা নিশ্চিতে তাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের। কিন্তু তিনি মাত্র দুজন নারী মন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন, যা তার রক্ষণশীল মনোভাবের প্রতিফলন।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, জাপানে নারীরা দৈনিক ঘরের কাজ, শিশু যত্ন ও কেনাকাটায় গড়ে ৭ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ব্যয় করেন, যেখানে পুরুষরা ব্যয় করেন মাত্র ১ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট।
তবে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। ২০২৪ সালের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রার্থীদের ২৩ শতাংশই ছিলেন নারী—যেখানে ২০০৫ সালে এ হার ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ।







