আওয়ামী লীগের ‘লগি-বৈঠা তাণ্ডব’-এর ১৯তম বার্ষিকী আজ (মঙ্গলবার)। ২০০৬ সালের এদিন রাজধানীর পল্টন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লগি-বৈঠা ও অস্ত্র হাতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নিরস্ত্র কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রকাশ্যে ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে লাশের ওপর নাচগান করে উল্লাসে মেতে ওঠে বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা।
সেদিন শেখ হাসিনার বাসভবন সুধাসদন থেকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ভয়াবহ এ ঘটনায় জাতিসংঘসহ দেশি-বিদেশি মহলে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করা হয়। মামলা হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তা প্রত্যাহার করে বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।
জামায়াতে ইসলামী এখনো ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিচারের দাবি জানিয়ে মামলাটি পুনরায় সচল করার আহ্বান জানিয়েছে।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ‘লগি-বৈঠা আন্দোলনের’ ডাক দেয়। দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে নেতাকর্মীরা লগি-বৈঠা হাতে মিছিল করে পল্টন-মুক্তাঙ্গন এলাকায় অবস্থান নেয়। অন্যদিকে একই দিনে সরকারের মেয়াদপূর্তি উপলক্ষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ আহ্বান করেছিল জামায়াতে ইসলামী। সকাল ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীরা হামলা চালায়, পিটিয়ে হত্যা করে শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলাম ও জসীম উদ্দিনসহ ছয়জনকে। এরপরও তাদের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাস করে হামলাকারীরা।
পরে জানা যায়, শেখ হাসিনার তৎকালীন ব্যক্তিগত সহকারী ড. আওলাদ হোসেন তার এক লেখায় সেদিন সুধাসদন থেকে ‘খাবার’ নামে কোডওয়ার্ডে অস্ত্র ও সরঞ্জাম পাঠানোর কথা উল্লেখ করেন।
পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনাকে নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়।
নিহতদের পরিবার এখনো বিচার প্রত্যাশায় দিন গুনছে। নিহত সিপনের ভাই ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “দিনদুপুরে ভাইকে লগি-বৈঠা দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। বিচার শুরু হলেও পরে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।” নিহত মাসুমের বাবা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমার ছেলেকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলো, বিচার পেলাম না। এখন একটাই চাওয়া—মৃত্যুর আগে যেন বিচারটা দেখে যেতে পারি।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, মামলার নথি পর্যালোচনা চলছে, শিগগিরই উচ্চ আদালতে আপিল করে মামলাটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠা হত্যাযজ্ঞ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। তৎকালীন সরকার খুনিদের রক্ষা করেছিল, কিন্তু এখন ন্যায়বিচারের নতুন সুযোগ এসেছে। তিনি দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।







