বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ে বিজেপির সংসদ সদস্য জগন্নাথ সরকারের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের মাটিয়ারী বানপুরে এক কর্মসূচিতে তিনি বলেন, “২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া তুলে দেওয়া হবে। আগেও এক ছিল বাংলা, আবার এক হয়ে যাবে।”
রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের এই এমপির বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি শুভদীপ সরকার বলেন, “তিনি প্রায়ই ভুল ও বিভ্রান্তিকর কথা বলেন। আমরা তাঁর সুস্থতা কামনা করি।”
শুভদীপ আরও বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষা একটি কেন্দ্রীয় বিষয়, এটি কোনো রাজ্যের সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ে না। কেন্দ্রীয় সরকারই সীমান্ত নীতিমালা নির্ধারণ করে।”
জগন্নাথ সরকারের মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কি বাংলাদেশ দখলের হুমকি দিচ্ছেন, নাকি এটি কেবল আবেগপ্রসূত বক্তব্য?
বিতর্কটি এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকপঞ্জি (NRC) ও নাগরিকত্ব যাচাই প্রকল্প (SIR) নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বিজেপি অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে জগন্নাথ সরকারের সীমান্ত খোলার আহ্বান দলীয় নীতি ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এ ধরনের বক্তব্য কেবল বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তা অস্বস্তিকর বার্তা বহন করে।







