রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে আন্দোলনকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে—এমন দাবি তুলেছেন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশরাত জাহান। রোববার ট্রাইব্যুনাল-২–এ পুলিশের ওসি মো. নূরে আলম সিদ্দিককে জেরা করার সময় তিনি এই বক্তব্য দেন।
১৭ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ওই দিন নূরে আলমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল। জেরার শুরুতেই ইশরাত প্রশ্ন তোলেন—আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তে পুলিশ সদস্যরা কোথায় ছিলেন। জবাবে নূরে আলম জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের ভেতরে ছিলেন এবং গেট খোলা ছিল।
আইনজীবী ইশরাত এরপর দাবি করেন, সাঈদকে গুলিবিদ্ধ করা হয়নি; আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটপাটকেল মাথার পেছনে লেগে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব দাবি সরাসরি অস্বীকার করেন ওসি নূরে আলম। তিনি বরং জবানবন্দিতে পুনরায় উল্লেখ করেন—তৎকালীন এসি আরিফুজ্জামান ও তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলামের নির্দেশেই আমির হোসেন ও সুজন গুলি চালিয়েছিলেন, যাতে আহত হন আবু সাঈদ।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনার বিবরণ দেন নূরে আলম। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তে টিয়ারশেলও নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ছাত্র-জনতা সরে যায়।
জবানবন্দির শেষের দিকে বেরোবি ক্যাম্পাসে উপস্থিত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিষয়টি যুক্ত করতে চাইলে আসামিপক্ষ আপত্তি তোলে। তাদের দাবি—এটা সাক্ষীর নয়, প্রসিকিউশনের সংশোধন।
এ মামলার প্রসিকিউশনে ছিলেন মিজানুল ইসলাম, মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ আরও বেশ কয়েকজন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন; তবে সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন এখনও পলাতক। সবমিলিয়ে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার বাকি কয়েকটি জবানবন্দি নিয়েই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।







