বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানিয়েছেন, বাংলাদেশ যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্পের মুখোমুখি হতে পারে। শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমকে তিনি এ সতর্কতা দেন।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদীকে কেন্দ্র করে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কম্পন অনুভূত হয়। এতে সারা দেশে সাতজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালে রেলিং ধসে তিনজন পথচারী মারা যান, নারায়ণগঞ্জে দুইজন এবং নরসিংদীতে দুইজনের মৃত্যু হয়। ভূমিকম্পের পর বহু মানুষ আতঙ্কে ঘর-বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন।
রুবাইয়াত কবির বলেন, ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলে গত কয়েক দশকে অনুভূত ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। দেশের অন্য এলাকায় ৪ থেকে ৫ মাত্রারকম্পন অনুভূত হলেও সেগুলোর উৎপত্তি দেশের বাইরে ছিল।
তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছে, যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ ভূমিকম্পঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। “যেকোনো সময় বড় ভূমিকম্প হতে পারে, তবে কবে হবে সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারি না,”—যোগ করেন তিনি।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ হুমায়ুন আখতার জানান, ২০০৩ সালে রাঙ্গামাটির বরকল ইউনিয়নে ৫.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। এর আগেও ১৯১৮ সালে দেশের অভ্যন্তরে ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, “আমরা বহুবার সরকারকে জানিয়েছি যে ভূমিকম্প মোকাবিলায় নিয়মিত মহড়ার বিকল্প নেই।” তার অভিযোগ, উদ্ধারকার্যের জন্য বড় বাজেট বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।







