ফ্যাসিবাদ নির্মূলে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, প্রশাসনে বিপুল জনবল ও অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসী তৎপরতা দমন এবং শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শরিফ ওসমান হাদি কেবল একটি নাম নন—তিনি বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও অনুভূতির প্রতীক। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।
হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যারা শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার চক্রান্ত করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, প্রশাসনে কোটি কোটি টাকা ও বিপুল জনশক্তি বিনিয়োগ করা হলেও ফ্যাসিবাদ নির্মূলে যে ধরনের কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রয়োজন ছিল, তা পরিলক্ষিত হয়নি। জুলাই পরবর্তী সময়ে যেসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদের অধিকাংশকেই পরবর্তীতে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা আবার অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরাসরি ও কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি গ্রহণযোগ্য ও সমান সুযোগভিত্তিক পরিবেশ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করতে সরকারকে এখন থেকেই জনগণের আস্থা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় জুলাইয়ের বিদ্রোহীরা পুনরায় রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। একটি সংগঠিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজনে আবারও প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।







