মহান মুক্তিযুদ্ধের উপ-সেনাপতি, সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার (বীরউত্তম) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তার জানাজা ও দাফনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এ কে খন্দকার মহান মুক্তিযুদ্ধে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ‘বীরউত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন। তার সম্মানে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে তাকে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়।
তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসনামলে পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাবনা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হন।
২০১৪ সালে তার লেখা ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ বইটি প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশের পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংক্রান্ত কিছু বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহল তার বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তোলে এবং বিষয়টি সংসদেও আলোচিত হয়। পরবর্তীতে তিনি বইটির বিতর্কিত অংশ প্রত্যাহার করেন এবং ২০১৯ সালের ১১ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে ভুল তথ্য উপস্থাপনের জন্য জাতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
রাষ্ট্রীয় ও সামরিক জীবনে এ কে খন্দকারের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে।







