জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের পরিচয় প্রকাশ শুরু হওয়ার পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে কবরস্থান। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে মরদেহ শনাক্তকরণ কার্যক্রম চলাকালে নিখোঁজদের পরিবারগুলো প্রিয়জনের পরিচয় জানতে পেরে কবরের ওপর কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারীদের হত্যা করে স্বৈরাচার সরকার গণকবর দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভ্যুত্থানের পর এসব কবর অজ্ঞাতনামা হিসেবে আবিষ্কৃত হয়। অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় নির্ধারণে সিআইডি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে সোমবার থেকে অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় প্রকাশ শুরু করে সংস্থাটি।
সিআইডি জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ শনাক্তকরণের অংশ হিসেবে মোট ১১৪ জনের মরদেহ উত্তোলনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে নতুন করে ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন—ফয়সাল সরকার, পারভেজ বেপারী, রফিকুল ইসলাম (৫২), মাহিম (২৫), সোহেল রানা, আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম (২৯)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকেরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। পাশাপাশি সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।
সিআইডি আরও জানায়, এ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
