বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেলিগেশন প্রধান ও রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের জন্য তিনটি সুখবরের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের জনগণের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুখবর জানাতে চাই।’
রাষ্ট্রদূত জানান, প্রথম সুখবর হলো বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বহুল আলোচিত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) চূড়ান্ত হয়েছে। উভয় পক্ষের আলোচকরা এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ২৭ দেশের এই জোটের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা
জোরদারে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইইউর সঙ্গে এ ধরনের ব্যাপক ও বহুমাত্রিক সহযোগিতা চুক্তিতে পৌঁছাল। এই চুক্তির আওতায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি সুশাসন, মানবাধিকার, জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হবে।
দ্বিতীয় সুখবর হিসেবে মাইকেল মিলার জানান, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে ও পরে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ৫৬ সদস্যের একটি দল দীর্ঘমেয়াদে মাঠে থাকবে এবং নির্বাচনের ঠিক আগে আরও ৯০ জন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসবেন। ইইউ পর্যবেক্ষকরা দেশের সব ৬৪ জেলায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন এবং নির্বাচন শেষে তাদের মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
তৃতীয় সুখবরের কথা উল্লেখ করে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ভূমিকা জোরদার করতে তহবিল বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিক সমাজকে আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে প্রত্যাশিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় রাখা সম্ভব হয়।







