রাজধানীর শাহবাগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জ, জলকামান ও ছররা গুলি বর্ষণের ঘটনায় এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে আন্দোলনকারীরা। এতে সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ডাকসুর সাবেক নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা, জকসুর নেত্রী শান্তা আক্তার এবং রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৩০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই শাহবাগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল সংলগ্ন সড়কে পুলিশি ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনেও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন শহীদ হাদির পরিবারের সদস্য ও সংগঠনের একাংশ। বিকেলে শাহবাগের বিক্ষোভকারীরা যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের পথরোধ করে। একপর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেপরোয়া লাঠিচার্জ শুরু করে এবং জলকামান ব্যবহার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও কয়েক রাউন্ড ছররা গুলি নিক্ষেপ করলে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের ছররা গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজের পোস্টে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ফাতেমা তাসনিম জুমা ও শান্তা আক্তারকে পুলিশের বুট দিয়ে আঘাত করার মতো নৃশংস ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আহতদের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে এবং তাদের মধ্যে অন্তত দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকেই তাঁর স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা শিশু সন্তান ফিরনাস বিন ওসমানকে নিয়ে রাজপথে অবস্থান করছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশীয় তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারিয়ে তারা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে আসছেন। আজকের এই হামলার ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।







