তরুণ প্রজন্মের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মিত হবে—এমন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি চায় না; তারা চায় বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও ইনসাফভিত্তিক একটি নতুন বাংলাদেশ। আজকের তরুণরা ‘বাংলাদেশ ২.০’-এর স্বপ্ন দেখছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেওয়া এই ভাষণে তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, রাষ্ট্র সংস্কার, তরুণ নেতৃত্ব, সুশাসন, গণভোট, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং প্রবাসীদের ভূমিকা—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন আন্দোলন ছিল না; বরং দেশের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদ। তার ভাষায়, রাস্তায় নেমেছিল তরুণরা, মা-বোনেরা, শ্রমিক-রিকশাচালক, পেশাজীবী মানুষ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন হয়েছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, পরিবারতন্ত্র ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ক্ষমতার কাঠামো ভাঙার দাবিতে। বিশেষ করে ২০০৯ সালের পর থেকে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ভোটাধিকার হরণ এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘তামাশায়’ পরিণত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা আর জুলাই চাই না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে জনগণকে আর কখনো রাস্তায় নামতে হবে না। এজন্য রাষ্ট্রের মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি জনগণের ইচ্ছা প্রকাশের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
ভাষণে তরুণদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, কিন্তু একটি মহল সেই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে—কারণ পরিবর্তন হলে তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাবানদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস সবার থাকে না। সেই সাহস দেখিয়েছেন আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওসমান হাদীসহ জুলাইয়ের আন্দোলনের শহীদ ও সহযোদ্ধারা।
তরুণদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা পরিশ্রমী, সাহসী, মেধাবী ও প্রযুক্তিবান্ধব। তারা সত্য বলতে ভয় পায় না এবং নতুন চিন্তাকে গ্রহণ করতে জানে। তারাই আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম।
প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ভবিষ্যতে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসী প্রতিনিধি নির্বাচন এবং সংসদে আনুপাতিক হারে প্রবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।







