আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বকশীগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত এই গণমিছিলে ১১ দলীয় জোটের জামালপুর-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন। এতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
বিকেল ৫টার দিকে বকশীগঞ্জ উপজেলার এন এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই মাঠে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি, দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লার স্লোগান দিতে এবং ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়। তারা ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতি, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
গণমিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী, উপজেলা জামায়াতের আমীর শফিকুল্লাহ মাস্টার, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আদেল ইবনে আওয়াল, পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুল মতিন, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রাশেদুল ইসলাম রাশেদীসহ স্থানীয় নেতারা।
বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ চরম হতাশায় ভুগছে। তারা অভিযোগ করেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরণে সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্ব অপরিহার্য। ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমেই দেশ ও জাতির কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তারা মত দেন। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে ভোটারদের সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান বক্তারা।
সমাবেশে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার দাবিও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি নির্বাচনি মাঠে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
গণমিছিল ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।







