ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দাবি করেছেন, তিনি টেলিকম খাতে দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ রাখেননি। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, টেলিকম খাতে দুর্নীতির প্রধান উৎস হলো লাইসেন্স প্রদান, কিন্তু তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনকালে কোনো নতুন লাইসেন্স দেননি।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, নতুন লাইসেন্স না দেওয়ায় রাজনৈতিক দলের অনেক ব্যক্তি তাঁর ওপর নাখোশ হয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মুখ খুললে অনেক ‘ভদ্রলোকের’ মুখোশ খুলে যাবে, তাই তাঁর ব্যক্তিগত সততা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে বরং তাঁর কাজ নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা উচিত। এতে দেশের উপকার হবে বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর মেয়াদে আইসিটি ও টেলিকম খাতে হওয়া বিভিন্ন বৈপ্লবিক পরিবর্তনের তালিকাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ ও ২০২৬ এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ অন্যতম। এ ছাড়া ন্যাশনাল এআই পলিসি, ক্লাউড পলিসি এবং সোর্স কোড পলিসির মতো আধুনিক রূপরেখাগুলো তাঁর সময়েই খসড়া বা চূড়ান্ত হয়েছে।
টেলিকম ও ডাক বিভাগের সংস্কার নিয়ে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সকল আইন ও গাইডলাইন তিনি পরিবর্তন করে দিয়েছেন। নতুন পারফরম্যান্স বেঞ্চমার্কিং এবং ডিজিটাল পার্সেল ট্র্যাকিংয়ের মতো কার্যক্রম চালু করেছেন। এমনকি ভবিষ্যতে তাঁর উত্তরসূরিরা যাতে সহজে কাজ এগিয়ে নিতে পারেন, সেজন্য তিনি ‘নোট টু সাকসেসর’ বা উত্তরসূরির জন্য দিকনির্দেশনাও লিখে গেছেন।
পরিশেষে তিনি সবাইকে ব্যক্তির কাজের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, যোগ্য ব্যক্তিদের কাজের যথাযথ সম্মান না দিলে ভবিষ্যতে মেধাবীরা দেশে কাজ করতে আসবে না। পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা চাইলে পরিবর্তন আনতে পারেন, তবে পুরো ইকোসিস্টেম পরিবর্তন করা কঠিন হবে এবং হঠকারী কিছু করলে ইতিহাসের কাছে তাঁদের দায়বদ্ধ থাকতে হবে।







