সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। ঈদের সালামি ও বোনাস দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সোহেল রানা (২৫) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। নিহত সোহেল উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের সরাতৈল গ্রামের আজাদ মণ্ডলের ছেলে।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরের দিকে সরাতৈল গ্রাম থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি ধানক্ষেত থেকে সোহেল রানার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এই নৃশংস ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের মা রুবি খাতুন জানান, শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে সোহেলের মোবাইলে বারবার ফোন আসছিল। তিনি বাধা দিলেও কায়েমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ঈদ বোনাস দেবেন বলে ৪/৫ জন যুবক সোহেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় এবং রাতে সে আর বাড়ি ফেরেনি।
শনিবার সকালে স্থানীয়রা ধানক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও পরিবারকে খবর দেয়। নিহতের মায়ের দাবি, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাইফুল ছাড়াও যারা রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, তারা সবাই সরাসরি জড়িত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছোট ভাই আসাদুজ্জামান দাবি করেছেন, তার ভাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং শত্রুতাবশত তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের মা রুবি খাতুন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং এই নৃশংসতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
