দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে ফিরে আসা সাতক্ষীরার এক আওয়ামী লীগ নেতার ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২২ মার্চ) ঈদের দিন রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত মো. বাহারউদ্দিনকে (৫৮) আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত বাহারউদ্দিন আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। তিনি জানান, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে প্রতিপক্ষের হামলা ও লুটপাটের ভয়ে তিনি এলাকাছাড়া ছিলেন। সম্প্রতি স্থানীয় এক নেতার আশ্বাসে শুক্রবার রাতে বাড়িতে ফেরেন এবং শনিবার ঈদের নামাজ আদায় করেন।
বাহারউদ্দিনের অভিযোগ, শনিবার রাতে তিনি ঘরে এশার নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসময় ৩০-৩৫ জনের একটি দল তার বাড়িতে চড়াও হয়। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানা দরজা খুললে হামলাকারীরা জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে বাহারউদ্দিনকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে। এরপর ‘আওয়ামী লীগ করার শাস্তি’ দেওয়ার কথা বলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।
হামলাকারীরা বাহারউদ্দিনের পিঠ, বাম বাহু এবং ডান চোখে গুরুতর জখম করে। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরের শিকার হন স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও। একপর্যায়ে বাহারউদ্দিন অচেতন হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। যাওয়ার সময় এই ঘটনা নিয়ে মুখ না খুলতে পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাহুল দেব রায় জানিয়েছেন, আহত বাহারউদ্দিনের শরীরে ভারী বস্তুর আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে, বিশেষ করে তার ডান চোখ ও বাম হাতের অবস্থা গুরুতর। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি এখনো বিস্তারিত অবগত নন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
