হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী দুলাল মিয়ার কারামুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জয়পুর গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতার নিজ বাড়িতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৪৬৭ দিন কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি মুক্তি পান।
উক্ত মিলাদ মাহফিলে বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী শামছুল আলম এবং মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোতাব্বির হোসেনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের নজরে আসে। আওয়ামী লীগ নেতার ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে বিএনপির এমন উচ্চপর্যায়ের নেতাদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে দলটির ত্যাগী ও তৃণমূল কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী এই ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ এবং দলীয় আদর্শের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী অভিযোগ করেন, দলের দুঃসময়ে এবং বিভিন্ন রাজপথের আন্দোলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে সক্রিয় দেখা না গেলেও আওয়ামী লীগ নেতার অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি রহস্যজনক। কেউ কেউ একে ‘সমঝোতার রাজনীতি’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
বিএনপি কর্মীদের একাংশের দাবি, আন্দোলনের সময় অনেক নেতা অসুস্থতার অজুহাতে হাসপাতালে বা আত্মগোপনে থাকলেও প্রতিপক্ষের নেতার দাওয়াতে তাদের যোগদান সাধারণ কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় এখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
