বর্তমান জাতীয় সংসদকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না—এমন দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই সংসদ হবে অতীতের সব সংসদের চেয়ে আলাদা, যেখানে সরকার ও বিরোধী দল দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে। কেউ কাউকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করবে না; কারণ সংসদের ব্যর্থতা মানেই দেশের ব্যর্থতা।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে কণ্ঠভোটে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়, যদিও বিরোধী দল এর বিরোধিতা করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংসদ একাত্তরের শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মতপার্থক্য থাকবে, বিতর্ক হবে—তবে কোনো অবস্থাতেই সংসদের কার্যকারিতা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। অতীতের মতো দীর্ঘ হরতাল দেশের ক্ষতি করেছে—এমন উদাহরণ টেনে তিনি সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সংসদের সফলতা মানেই দেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ—এসব বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন তিনি।
আইটি খাতের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু উন্নয়নের প্রশ্নে কোনো দ্বিমত নেই। তাই জনপ্রিয়তার চেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জানান, জাতীয় আয়ের বড় অংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে নারীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষাকে বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যায়ক্রমে স্কুলব্যাগ, পোশাক ও জুতা সরবরাহের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যৌথ উদ্যোগে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সংবিধান আমাদের অস্তিত্বের অংশ: মির্জা ফখরুল
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংবিধান নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেলেও এটি দেশের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি রাষ্ট্রপতির পদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন।
সামনে কঠিন সময়: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী দুই বছর চ্যালেঞ্জিং হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে কিছু কঠিন ও অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
‘ফ্যাসিস্ট শাসনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যবস্থা’
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, পূর্ববর্তী শাসনে প্রশাসনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করছে।
ঐক্যের বার্তা চিফ হুইপের
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সংসদকে পিঁপড়ার ঐক্যের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সবাই মিলেই টিকে থাকতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
এক-এগারোর স্মৃতি তুলে ধরলেন গয়েশ্বর রায়
সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কঠিন রাজনৈতিক সময়েও তারা গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমমর্যাদা বজায় রাখার ওপর জোর দেন।







