ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে সরকারি খাল ও কৃষি জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার জিনোদপুর গ্রামে নবীনগর-কোম্পানিগঞ্জ সড়কের পাশে এই ভরাট কার্যক্রম চলায় স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারি খাল ভরাট হওয়ায় ভবিষ্যতে এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ উঠেছে, নবীনগর পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মাওলা ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এই ভরাট কাজ চলছে। এই চক্রে জিনোদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনসহ আরও অন্তত ১০ জন জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে। গত এপ্রিলের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই ভরাট কাজের মাধ্যমে ইতোমধ্যে জমির একটি বড় অংশ ভরাট করে ফেলা হয়েছে।
গত সপ্তাহে খবর পেয়ে নবীনগর উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের অভিযানের পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আবারও ভরাট শুরুর পাঁয়তারা করছে চক্রটি। এই নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ বিন মনসুর জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পুনরায় যদি কেউ জমি বা খাল ভরাটের চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মান্নান এই বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানান, কৃষি জমি ভরাট না করার বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এই অবৈধ কাজে যদি ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতাকর্মীও জড়িত থাকে, তবে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
