পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌর যুবদলের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ঘিরে চরম উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় বার ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত ও দল থেকে বহিষ্কৃত তিন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় যুবদলের একাংশ।
গত ২৯ এপ্রিল যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন (এমপি) এই নতুন কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটিতে সৈয়দ মো. ফারুককে সভাপতি এবং মো. জহিরুল ইসলাম মিরনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তবে বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো বহিষ্কৃত নেতা ইউসুফ ঘরামী, হাসান হাওলাদার ও সোহেল মিয়াজীকে যথাক্রমে সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য পদে অন্তর্ভুক্ত করা।
দলীয় সূত্র মতে, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে কুয়াকাটার একটি হোটেলের বারে ভাঙচুরের অভিযোগে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পটুয়াখালী জেলা যুবদল এই নেতাদের বহিষ্কার করেছিল। বহিষ্কৃতদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল ষড়যন্ত্রমূলক এবং তারা কোনো অপরাধ করেননি। তবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাদের পুনর্বাসন করায় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ ফারুক মীর দাবি করেছেন, কমিটিতে কোনো বহিষ্কৃত নেতাকে রাখা হয়নি এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন মন্তব্য করেছেন যে, নতুন কমিটিতে নাম আসার পর আগের বহিষ্কারাদেশ কার্যত অকার্যকর হয়ে যায়। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে জায়গা দেওয়ায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
