মাঠের কর্মসূচি বেগবান ও তৃণমূলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একযোগে ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করলেও তা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে তীব্র অস্থিরতা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ঘোষিত এসব কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, অছাত্র ও বিবাহিতদের পদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এই ক্ষোভের জেরে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ ও ঝাড়ু মিছিলের মতো ঘটনা ঘটেছে, যা ছাত্রদলের চেইন অব কমান্ড বা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জুলাই বিপ্লবসহ বিগত দিনের রাজপথের আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের অবমূল্যায়ন করে ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘নিষ্ক্রিয়’দের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালী, বরিশাল, কক্সবাজার ও ময়মনসিংহে এই অসন্তোষ চরম রূপ নিয়েছে। রাঙামাটিতে নতুন কমিটি ও পদবঞ্চিতদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার পর প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয়। এছাড়া নোয়াখালীতে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ময়মনসিংহে মেডিকেল কলেজের কমিটি, যেখানে ২২ সদস্যের মধ্যে আটজনই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক পদধারী নেতা বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের কমিটি নিয়েও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শত শত পদবঞ্চিত কর্মী। তাদের দাবি, টাকার বিনিময়ে অছাত্র ও ব্যবসায়ীদের পদ দেওয়া হয়েছে। অনেক ত্যাগী নেতা দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা বলে গণমাধ্যমের সামনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগপ্রবণ হয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।
ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা মনে করছেন, সামনে যখন বিরোধী দলের রাজনৈতিক আন্দোলন কঠিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন সংগঠনের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা এই পরিস্থিতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অনেক সিনিয়র নেতা মনে করেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় একটি বড় অংশ এখন নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের দাবি তুলছেন।
সার্বিক বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির জানিয়েছেন, জেলা কমিটিগুলো স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পরামর্শ এবং বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকা বিবেচনা করেই দেওয়া হয়েছে। তবে পদের তুলনায় প্রত্যাশী অনেক বেশি হওয়ায় সবাইকে জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে তিনি জানান, ময়মনসিংহের মতো জায়গায় ছাত্রলীগের গণহারে পদ দেওয়ার কারণে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে যা যাচাই করা হচ্ছে।







